নামাযে সানা পড়ার নিয়ম।

 প্রত্যেক নামাজের শুরুতে সানা পড়া সুন্নত। এটি বাধ্যতামূলক নয়। চাইলে পড়তে পারেন, না পড়লেও আপনার কোনো গুনাহ হবে না। শুধু একটা সুন্নত আদায় হবে না।

তবে আমি পরামর্শ দেব যে, সানা পড়বেন। সুন্নত বলে খাটো করে দেখবেন না, সুন্নত আদায় করুন। কারণ এটিই নিয়ম। কিন্তু যদি সানা না পড়েন তাহলে নামাজ হয়ে যাবে।  

হাদিসের বর্ণনায় একাধিক সানা পড়ার দিকনির্দেশনা রয়েছে। 

 হাদিসে এসেছে-- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবিরে তাহরিমা ও সুরা ফাতিহার মধ্যবর্তী সময়ে কিছু সময় চুপ থাকতেন। আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার বাবা-মা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি তাকবিরে তাহরিমার পর নিরব থেকে কি বলেন? তিনি বললেন, যে আমি তখনি বলি-اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ


উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া, কামা বাআদ্তা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিবি; আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিন খাতাইয়াইয়া কামা ইউনাক্কাছ্ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিলনি মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি, ওয়াছ্ছালজি, ওয়াল বারাদি।’


হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজ শুরু করতেন তখন বলতেন-سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। (তিরমিজি, আবু দাউদ মিশকাত)

অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপগুলো থেকে এত দূরে রাখ যেমন পূর্ব ও পশ্চিম পরস্পরকে পরস্পর থেকে দূরে রেখেছ। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে এমন ভাবে পরিষ্কার করে দাও, যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে আমার পাপ হতে (পবিত্র করার জন্য) পানি, বরফ ও শিশির দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)



মুমিন মুসলমান যখন নামাজে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে তারপর নামাজের রোকনগুলো যথাযথভাবে আদায় করে মহান আল্লাহ বান্দার এসব আবেদন কবুল করে নন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো সানা বা দোয়ায়ে ইসতিফতাহ পড়ে তাঁর সুন্নাতের যথাযথ অনুসরণ ও অনুকরণ করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের তাকবিরে তাহরিমার পর সানাগুলোর মধ্য থেকে যার যার জন্য সহজ যে কোনো পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Popular posts from this blog

নামাযের নিয়ত কিভাবে করবো?

নামাযে শাহাদাৎ আঙুল ইশারার হাদিস।